এফিলিয়েট মার্কেটিং  বিষয়ে ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ দিক 



বর্তমান সময় এফিলিয়েট মার্কেটিং খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।  কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অনেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেই  ইনকাম করার চিন্তা করে।  আসলে সবকিছু এতো সহজে পাওয়া যায় না।  এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করছে।  তো এই কাজ টি করার জন্য এবং সফলতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই সঠিক গাইড লাইন দরকার।  তা নাহলে আপনি কখনোই সফলতা পাবেন না।  এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে আপনি যে নিশ নিয়ে কাজ করবেন তার উপর যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে মার্কেট প্লেস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

আপনি হঠাৎ করেই যদি শুরু করেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যাবে।  এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম এবং আনলিমিটেড ধর্য্য।  প্রথমেই আপনাকে ইনকাম করার চিন্তা বাদ  দিতে  হবে।


আসুন জেনে নেই এফিলিয়েট মার্কেটিং এর  ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনার অনেক কাজে লাগবে। 

১. শুরুতে ইনকামের চিন্তা না করা 

আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর শুরুতে ইনকাম করার চিন্তা মাথা থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলুন।  আপনার শুরুতে কাজ হবে আপনার সাইট টি র্যাংক করানো যাই কিভাবে সেই বিষয়ে চিন্তা করা।  আপনি ধরেই নিবেন আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছর কোনো ইনকাম করবেন না শুধু শ্রম দিবেন।  যদি এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে পারেন আপনি অবশ্যই ভালো একটা পজিশন করতে পারবেন ভালো আর্নিং আপনার হবে।

প্রথমদিকে আপনার এফিলিয়েট ওয়েবসাইট  টি সাজিয়ে নিন।  কারণ কোনো ক্লায়েন্ট সাজানো গোছানো জায়গা থেকেই কিন্তু প্রোডাক্ট কিনবে।  তাই আপনার সাইট টি সুন্দর করে সাজান।
যদি সম্ভব হয় এস ই ও করার চেষ্টা করুন।


২. এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস  নির্বাচন 

আপনি কোন মার্কেট প্লেস এ কাজ করবেন সেই বিষয়টি আপনাকে ঠিক করতে হবে।  এফিলিয়েট করার জন্য হাজারো মার্কেটপ্লেস রয়েছে।  কিন্তু আপনাকে বাছাই করতে হবে আপনি কোন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করবেন।
আগে আপনাকে এজন্যে হবে কোন মার্কেটপ্লেস এফিলিয়েট করার জন্য ভালো।  সারা বিশ্বে সব থেকে বেশি কোন সাইট থেকে মানুষ শপিং করছে।  আপনি আগে নির্বাচন করুন মার্কেটপ্লেস যেটা আপনার জন্য পারফেক্ট।

. প্রোডাক্ট বা নিশ নির্বাচন 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাফল্য মূলত নির্ভর করে নিশ এর উপর।  আপনি কি ধরণের নিশ নিয়ে কাজ করবেন এইটা সিলেক্ট করুন।
তার জন্য দরকার একটু রিসার্চ করা।  কোন প্রোডাক্টগুলো মানুষ বেশি ক্রয় করে।  কোন প্রোডাক্ট গুলোতে আপনি বেশি প্রফিট পাবেন।  এইগুলো নিয়ে আপনাকে আগে ভাবতে হবে।  তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন সেটা হলো আপনি যে বিষয় টা মোটামুটি জানেন বা ধারণা আছে সেই ধরণের নিশ নিয়ে কাজ করাটাই ভালো।  তাহলে আপনি সেই প্রোডাক্ট এর কনটেন্ট সুন্দরভাবে লিখতে পারবেন।

তবে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর থেকে ডিজিটাল প্রোডাক্ট এ অনেক বেশি প্রফিট পাওয়া যাই।  যেমন আপনি কোনো একটা টেলিভিশন বিক্রি করে দিলে সর্বোচ্চ ৫% কমিশন পাবেন কিন্তু পানি যদি কোনো থিম , সফটওয়্যার , বা প্লাগ ইন বিক্রি করলে আপনি ৩০% কমিশন পাবেন।
তবে এইটা আপনার নলেজের উপর নির্ভর করবে।

৪. কন্টেন্ট রাইটিং 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মোস্ট ইম্পর্টেন্ট একটা দিক হলো কনটেন্ট রাইটিং। আপনার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ এফিলিয়েট মার্কেটিং করছে আপনার মতো তারাও একই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে তো এই ক্ষেত্রে আপনাকে একটু অবশ্যই ডিফারেন্ট হতে হবে।
আপনার কনটেন্ট রাইটিং টাও একটু ডিফারেন্ট হতে হবে।  আপনার প্রোডাক্ট এর ডিটেলস তা কিভাবে লিখবেন সেটা ঠিক করতে হবে।  তবে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে কনটেন্ট লেখাটা অনেক সহজ।  কারণ আপনি প্রোডাক্ট এর নাম লিখে গুগলে সার্চ করলে অনেক রেজাল্ট পাবেন সেখান থেকে ধারণা নিয়ে আপনি খুব সহজেই কনটেন্ট লিখতে পারবেন।

একটা বিষয় মাথায় রাখবেন আপনার কনটেন্ট তা যেন ২০০০-৩০০০ ওয়ার্ড এর হয় এইটাতে আপনার একটা প্রফিট হলো আপনার প্রোডাক্ট টা র্যাংক করতে সহজ হবে.


৫. এফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরী 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য অবশ্যই  একটা ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে এবং সেটা ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয়ের মাধ্যমে।  ফ্রি ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট র্যাংক হবে না।  ঠিক মতো customize করতে পারবেন না।  থিম এর ক্ষেত্রে অনেক ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম ecommerce এর জন্য পাবেন সেগুলো ব্যবহার করলেই হবে।  প্রথম অবস্থায় আপনি একটা ফ্রি থিম ব্যবহার  করে আপনার কাজ করতে পারবেন।  তবে ডোমেইন এর ক্ষেত্রে। .com , .net ব্যবহার করাটাই ভালো।

 এই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ৫ টি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়।  আপনি যদি ঠিকমতো কাজ করতে পারেন অনেক ভালো আর্নিং এখন থেকে করতে পারবেন।



লেখাটা ভালো লাগলে অবসসই কমেন্ট করবেন।  আরো গাইড লাইন পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।  নতুন নতুন লেখা নিয়ে হাজির হবো।  ধন্যবাদ